মিঠু চড়ুইয়ের ধৈর্য্য ও যত্নের গল্প
অন্য পাখিরা তাকে দেখে হাসত এবং বলত, "মিঠু, এত সময় নষ্ট করছ কেন? আমরা তো একদিনেই বাসা বানিয়ে ফেলি!" কিন্তু মিঠু তাদের কথা শুনেও না শোনার ভান করে তার কাজে মনোযোগ দিত। সে জানত যে, একটি মজবুত বাসা তৈরি করতে হলে ধৈর্য ও যত্নের প্রয়োজন।
মিঠু খুব যত্ন করে প্রতিটি কাঠি বেছে বেছে তার বাসা তৈরি করতে শুরু করল। সে চেয়েছিল তার বাসাটি যেন খুব গরম এবং মজবুত হয়। সে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করত এবং তার বাসাটি ধীরে ধীরে সুন্দর ও মজবুত হয়ে উঠল।
একদিন হঠাৎ ফুলবাড়ির আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করল এবং প্রচণ্ড ঝড় শুরু হল। বাতাস হুহু করে বইতে লাগল এবং বৃষ্টি নামল প্রবল বেগে। অন্য পাখিরা ভয় পেয়ে তাদের হালকা বাসায় আশ্রয় নিল। কিন্তু মিঠু তার মজবুত বাসায় শান্তিতে বসে রইল।
পরের দিন সকালে ঝড় থেমে গেলে দেখা গেল যে, অন্য পাখিদের বাসাগুলো মাটিতে পড়ে গেছে। কিন্তু মিঠুর বাসা তখনও মজবুতভাবে বটগাছে টিকে ছিল। গৃহহীন পাখিরা অবাক হয়ে মিঠুর দিকে তাকাল।
মিঠু "আমি তো আগেই বলেছিলাম" বলল না — সে শুধু ডানা মেলে বলল, "এসো, এখানে সবার জায়গা আছে।" সবাই মিলে আবার বাসা বানাল — এবার ধীরে, যত্ন করে, ঠিক মিঠুর মতো করে।
পরের ঋতুতে ফুলবাড়ির গাছে গাছে মজবুত বাসা ভরে গেল — আর সবাই শিখল, ধৈর্য আর যত্নই সবচেয়ে বেশিদিন টিকে থাকে।
উপসংহার:
এই গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, ধৈর্য ও যত্ন সহকারে কাজ করলে আমরা সফল হতে পারি। আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, পরিশ্রমের ফল সবসময় মিষ্টি হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন