পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শেষ চিঠি — অলকা ভট্টাচার্য

ছবি
  রাত তখন প্রায় দুটো। বৃদ্ধা মালতী দেবী তাঁর পুরনো কাঠের বাক্সটা খুললেন। আঙুলগুলো কাঁপছে। চোখে চশমা নেই, তবু তিনি জানেন ভেতরে কী আছে। চল্লিশ বছর ধরে জানেন। একটা হলদে হয়ে যাওয়া চিঠি। ভাঁজ করা। কখনো খোলা হয়নি। সেদিন ছিল ১৯৮৩ সালের বর্ষাকাল। মালতীর বয়স তখন বাইশ। সদ্য বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি এসেছেন মাত্র তিন মাস। স্বামী সুবীর কাজের জন্য আসামে গেছেন — বললেন দু'সপ্তাহে ফিরবেন। দু'সপ্তাহ হয়ে গেল এক মাস। এক মাস হয়ে গেল তিন। চিঠি আসে। কিন্তু সুবীর আসেন না। শেষ চিঠিতে সুবীর লিখেছিলেন — "মালতী, আমি একটু দেরি করে আসছি। কিন্তু এবার যখন আসব, তোমার হাতে একটা জিনিস দেব। সারাজীবন কাছে রেখো।" সেই চিঠি পৌঁছানোর পরের দিন সকালে খবর এল। আসামে বন্যায় ভেসে গেছেন সুবীর। শরীর পাওয়া যায়নি। মালতী দেবীর কোলে তখন তিন মাসের সন্তান। শাশুড়ি বললেন, "বাপের বাড়ি চলে যাও। এখানে থেকে কী করবে?" মালতী যাননি। "এই বাড়িতে আমার স্বামী ছিলেন। এই মাটিতে তাঁর পায়ের ছাপ আছে। আমি কোথাও যাব না।" তিনি রয়ে গেলেন। ছেলে বড় করলেন। বাড়ির রান্না করলেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করলেন। কিন্তু ...