উপন্যাস: অদৃশ্য সমুদ্র || জীবনের গল্প
প্রথম অধ্যায়: বুকের ভেতরের শব্দ ডাক্তার অর্ণব সেন সেই দিনটাকে ভুলতে পারেননি। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। চেম্বারের জানালায় ছোট ছোট জলকণা জমে ছিল—ঠিক যেন কেউ খুব ধীরে, নিঃশব্দে কাঁদছে। সেই সময়ই মেয়েটা ঢুকল। সাদা সালোয়ার-কামিজ, খুব সাধারণ। হাতে একটা সোনার আংটি, গলায় পাতলা চেইন। চোখে কোনো কাজল নেই, কিন্তু ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। “আসুন ,” অর্ণব বললেন। মেয়েটা বসে পড়ল। একটু থেমে বলল— “ডাক্তার সাহেব… আমার বুক ধড়ফড় করে।” অর্ণব অভ্যস্ত। এই ধরনের কথা প্রায়ই শোনেন। তবু মেয়েটার কণ্ঠে কিছু একটা ছিল—একটা ফাঁকা শব্দ। “কবে থেকে?” “কয়েক মাস…” “ভয় পান?” মেয়েটা একটু হেসে বলল— “না… মানে… তেমন কিছু না।” এই “তেমন কিছু না”—এই শব্দটাই অর্ণবের কানে সবচেয়ে জোরে বাজল। দ্বিতীয় অধ্যায়: নামহীন অসুখ মেয়েটার নাম মেঘলা। বয়স ২৯। বিবাহিত। একটি ছেলে আছে—পাঁচ বছর বয়স। সব কিছু ঠিকঠাক। স্বামী, শুভ, একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে। ভালো আয়। সংসারে কোনো অভাব নেই। “আপনার স্বামী কেমন?” মেঘলা বলল— “ভালো।” “আপনাদের মধ্যে কোনো সমস্যা আছে?” “না।” “ঝগড়া হয়?” “না।” সব প্রশ্নের উত্তর—“না”। অর্ণব চুপ ...